মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন চাচাতো বোনের দায়ের করা ‘সাজানো’ চাঁদাবাজি মামলায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করার একটি অপচেষ্টা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে লাখি আক্তার (৫১) নামের এক নারী তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে আসছেন।
সর্বশেষ দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলাটি নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ৩ নম্বর সাক্ষী নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, যে দিন ঘটনার কথা বলা হয়েছে আমি তখন একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে ছিলাম। ১৮ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছি। আমি কীভাবে এই ঘটনার সাক্ষী হলাম অপর সাক্ষী মো. আশরাফও অভিযোগ করেন, তাকে জোরপূর্বক সাক্ষী করা হয়েছে এবং অভিযুক্তরা নির্দোষ।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বাড়ৈখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মো. সেলিম তালুকদার এবং বর্তমান ইউপি সদস্য মো. শেখ আসলাম বলেন, অভিযুক্তরা এলাকায় সুশীল ও সজ্জন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাদের মতে, এটি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, যাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘চাঁদাবাজি মামলা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোয়াজ্জেম দেওয়ান জানান, লাখি আক্তারের আগেও ২০১৯ সালে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা (নং ৭৭/২০১৯) করেছিলেন যা আদালত খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, সেই মামলায় ব্যর্থ হয়ে এবার নতুন করে সি.আর মামলা নং-১৫০/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ সদস্য হলেন মাহাবুব দেওয়ান (৪৫), মো. আজাদ হুসাইন (৩৮), মজিবর দেওয়ান (৫১), মোয়াজ্জেম দেওয়ান (৩৫), বাবু দেওয়ান (৫৫)। ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছে, ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মিথ্যা মামলার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।