নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা।
একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের একটি সমন্বিত তালিকা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), ডিএমপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সম্প্রতি ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মোহাম্মদপুর, শের-ই-বাংলা নগর, আদাবর, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও হাতিরঝিল থানার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে বিশেষ ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনা করা হয়।
ডিএমপি’র তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৯ হাজার ২৫৯ জনকে গ্রেফতার এবং ১ হাজার ৩০৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর ১১টি থানায় ২ হাজার ৬২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় সর্বোচ্চ ৬৭৪ জন, হাজারীবাগে ৪৯৪, মিরপুরে ৪৬৯ এবং উত্তরা পশ্চিমে ২৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং পুলিশ-জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে পুলিশ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ডিএমপি’র গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলেও তা আরও উন্নত করতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) খুন, অর্থপাচার, সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে কাজ করছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বিভিন্ন অপরাধে ৭ জনকে গ্রেফতার এবং ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত।
র্যাবও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ৬২৭ জনকে গ্রেফতার ও ৪৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মার্চ মাসে ৮৫২ জনকে গ্রেফতার এবং ৯৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক এবং নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সক্রিয় রয়েছে। বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, মার্চ মাসে অভিযান চালিয়ে ১৬৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদারের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমে এসেছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে এবং অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
একইভাবে নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, বাড্ডা ও শাহবাগ থানার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক টিম সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত অভিযান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।