এর আগে গ্যালারিগুলোর নাম ছিল নদী ও ফুলের নামে। নতুন নামকরণের ফলে সংসদ ভবনের প্রতিটি গ্যালারি এখন মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
নতুন নামকরণ হওয়া গ্যালারিগুলো হলো- ভিআইপি গ্যালারি ১- বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (পূর্বের নাম: পদ্মা), ভিআইপি গ্যালারি ২- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান (পূর্বের নাম: মেঘনা), গ্যালারি ৩- বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ, (পূর্বের নাম: শিমুল)। গ্যালারি ৪- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (পূর্বের নাম: শিউলি)। গ্যালারি ৫- বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন (পূর্বের নাম: বকুল)। গ্যালারি ৬- বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ (পূর্বের নাম: শাপলা)। গ্যালারি ৭- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (পূর্বের নাম যমুনা)।
এছাড়া গ্যালারি-১ ও গ্যালারি-২ সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে (সাংবাদিক গ্যালারি)।
এ বিষয়ে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করি। এ কারণেই সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নামে সাতটা গ্যালারি নামকরণ করেছি। যা আগে ছিল -পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বকুল ও শিমুল ইত্যাদি। এসব সব বাদ দিয়ে এখন সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ এর নামে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এম এ জি ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। তার নামে প্রধান ফটকটা নামকরণ করা হয়েছে। এ ফটক দিয়ে সবাই যাওয়া আসা করে।
চিফ হুইপ বলেন, আমরা পূর্ণ ইমান নিয়ে আল্লাহকে বিশ্বাস করি। এ কারণে সংসদের অধিবেশন কক্ষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা বসানো হয়েছে। যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিল, সেখানে কালেমার ক্যালিগ্রাফি বসানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদে স্বাধীনতার বীরত্বগাথা স্থায়ীভাবে স্থান পেল। গ্যালারিগুলোর পূর্বের ফুল ও নদীর নাম পরিবর্তন করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংসদে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
তাদের মতে, জাতীয় সংসদে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে গ্যালারির নামকরণ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ত্যাগ ও বীরত্বের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শনের এক অনন্য উদাহরণ।
সূত্র: বাসস