নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেডিকেল টেকনোলজি কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে পেশাদারদের লাইসেন্স প্রদান ও ডিপ্লোমাধারীদের ১০ ম গ্রেড (২য় শ্রেণীর গেজেটেড) পদমর্যাদা দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত নিয়োগ এর ব্যবস্থা করা সহ প্রাইভেট সার্ভিস নীতিমালা প্রণয় করা সহ ৬ দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

সোমবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানব্বন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে গণমুখী করতে হলে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকল জনবলের অধিকার সুনিশ্চিত করা অভ্যবশকীয়। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থকর্মীদের পেশাগত সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে সকলকে সাথে নিয়েই একটি অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। একটি জনমুখী কল্যানকর সাম্যবাদী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে জুলাই- বিপ্লব অনুসরণীয় ও অনুকরনীয়।

বক্তারা আরো বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি টিম ওয়ার্ক” যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পরিচালিত দেশে সরকারি পর্যায়ে ২৩ টি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৬৫ টিরও অধিক বেসরকারি আইএইচটি সমূহের ০৮ টি অনুষদে মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসী সেক্টরে পাশকৃত ৪০ হাজাররেও বেশি জনবলের পরিকল্পনামাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন প্রকার দপ্তরের ব্যবস্থা না থাকা দূঃখজনক বিষয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গাইডলাইন অনুযায়ী ১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন নার্স ও ৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ ১৪ বছরেরও অধিক সময় প্রশাসনিক জটিলতায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকারি চাকরিতে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংখ্যা মাত্র ৪১০৬ এবং মোট পদের সংখ্যা ৫৯৭৫ টি। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যার অনুপাতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হওয়ার কথা ছিল ৮০ হাজারেরও বেশি। নিয়োগ জটিলতা শেষ হয়ে ২০২৩ সালের ১ আগষ্ট নবসৃষ্ট পদে ৮৯৯ জনকে নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই নগণ্য। দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় একটি বৃহৎ অংশের সরকারি চাকরিতে আবেদন বয়সসীমা পার হয়ে গেছে। নিজস্ব কোন দপ্তর না থাকায় এ দক্ষ অথচ বেকার জনগোষ্ঠী একপ্রকার হতাশাগ্রস্ত জীবন যাপন করছে। নিয়োগ ঝাটিলতা কেটে গেলেও ২০১৩ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখনও নানাবিধ খোঁড়া অযুহাতে আটকে রাখা হয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, দেশের প্রেক্ষাপটে মেডিকেল টেকনোলজি পেশাটি বরাবর অবমূল্যায়িত হলেও বর্হিবিশ্বের দিকে তাকালে এ চিত্র পুরোপুরি আলাদা। বিদেশে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা গুলোকে অদ্যাবধি মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। শুধু তা-ই নয় ডিপ্লোমা না ডিগ্রীকেন্দ্রীক পদোন্নতির বাইরে ব্যক্তির মেধা, জ্ঞান, সক্ষমতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদিকে আমলে নেয়া হয়। একজন পেশাজীবী ডিপ্লোমাধারীও পেশানার স্নাতকধারীর মত করে পাদোন্নতি পেয়ে থাকেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ০৯ অক্টোবর বিভিন্ন আইএইচটির শিক্ষার্থীবৃন্দ দাবী দাওয়া বাস্তবায়নের জন্য মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এবং গতকাল ২০ অক্টোবর সারা দেশের আইএইচটি ও অধ্যক্ষ মহোদয়কে দাবী দাওয়া সম্পর্কিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৬ দাবি গুলো হল: ১. স্বতন্ত্র পরিদপ্তর গঠন করতে হবে। ২. ডিপ্লোমাধারীদের ১০ ম গ্রেড (২য় শ্রেণীর গেজেটেড) পদমর্যাদা প্রদান করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নীতিমালা অনুযায়ী আনুপাতিক হারে পদ সৃজন পূর্বক দ্রুত নিয়োগ এর ব্যবস্থা করতে হবে, পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০১৩ সালের স্থগিতকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। ৩. গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের নবম গ্রেডের পদসৃষ্টি পূর্বক চাকুরীজীবিদের আনুপাতিক হারে পদোন্নতির নিয়ম বহাল রেখে স্ট্যান্ডার্ড সেট আপ ও নিয়োগবিধি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৪. ঢাকা আইএইচটি-কে “বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি” নামকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সকল আইএইচটিসমূহের জন্য মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট শিক্ষকদের স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার প্লান গঠন করে বিদ্যমান নিয়োগ বিধি ও অসংগতিপূর্ণ গ্রেড সংশোধন করতে হবে। ৫. মেডিকেল টেকনোলজি কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে পেশাদার লাইসেন্স প্রদান, ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড গঠন এবং প্রাইভেট সার্ভিস নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ৬. বি ফার্ম সহ সকল অনুষদের বিএসসি ওএমএসসি কোর্স চালু করা এবং স্কলারশিপ সহ প্রশিক্ষণ ভাতা চালু করতে হবে। মানববন্ধনে এসময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসি ছাত্র সংগ্রাম পরিরষদের আহবায়ক আসাদুল সিকদার, সদস্য সচিব জীবান ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসাইন প্রমূখ।