ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই চলচ্চিত্রাঙ্গনে বিরাজ করছে স্থবিরতা। ইতিমধ্যে কিছু নাটক-সিনেমার কাজ শুরু হলেও স্বাভাবিক ছন্দ ফেরেনি এখনও। একই অবস্থা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) আঙিনাতেও। সেখানে অবস্থিত চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সমিতিগুলোতে নেই চাঞ্চল্য। বেশির ভাগ সমিতিই ফাঁকা। বিশেষ করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে বর্তমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের তেমনভাবে দেখা মিলছে না। সভাপতি মিশা সওদাগর মাঝেমধ্যে এলেও, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল একেবারেই আসছেন না।
সম্প্রতি কয়েকদিন এফডিসি ঘুরে দেখা যায়, শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে রুটিন মাফিক কাজ করছেন কয়েকজন, যাঁরা তেমনভাবে পর্দার পরিচিত কেউ নন। তবে পাওয়া যায়নি সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদককে।
৫ আগস্টের পর তাঁরা এসেছিলেন কি না—জানতে চাইলে বেশিরভাগই কার্যত মন্তব্য এড়িয়ে গেলেন। তবে কয়েকজনের সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের কথা হয়েছে। তাঁদের কেউ বলছেন, ‘উনারা এখন আর আসেন না। সমিতি ফাঁকা পড়ে আছে দেখতেই পারছেন।’ আবার কেউ বলেন, ‘এলেই তো ঝামেলায় পড়তে হবে!’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন মিশা সওদাগর। প্রায় তিন মাস সেখানে কাটিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে দেশে ফিরেছেন তিনি। এরপর ‘কবি’ নামের একটি সিনেমা কাজে অংশ নিয়েছেন। শিল্পী সমিতির কার্যালয়েও গিয়েছিলেন। তবে আগের মতো তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে না। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক ডিপজলের নামে মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই আড়ালে রয়েছেন তিনি।
যদিও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে দেখা গেল এর চেয়ে ভিন্ন চিত্র। সমিতির প্রায় সদস্যই নিয়মিত আসছেন। তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে মিশা-ডিপজলের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সেভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘উনাদের (মিশা-ডিপজল) খুব একটা আসা পড়ে না। মিশা সওদাগর সাহেব উনি আমেরিকাতে ছিলেন। উনি আসছিলেন কিছুদিন আগে। আসলে সমিতিতে কে আসলেন, কে আসলেন না—সেটা খুব একটা বড় নয়, গুরত্বপূর্ণ হলো কাজ। আজকে যদি আমরা মিশা সওদাগরকে নিয়ে কাজ করি, তবে উনি আসতে বাধ্য।’
যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখন কাজ না থাকাটা আমাদের ব্যর্থতা। তবে দায় কিছুটা সরকারেরও। কেননা যতদিন না পর্যন্ত এখানে সংস্কার না হবে, ততদিন পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রির চাকা ঘুরবে না।’
এদিকে, ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করতে চাইলে ডিপজলের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়, আর মিশা সওদাগরের সাড়া মিলেনি।
প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় শুভ নামের একজন মারা গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়।