সাত্তার আব্বাসী, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরমোনহারপুর বাজার থেকে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৭৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কের নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় নির্মিতব্য এই সড়কে রডের পরিবর্তে বাঁশ এবং মানহীন ইট, খোয়ার পরিবর্তে পোড়া মাটি ব্যবহারের দৃশ্য চোখে পড়েছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সড়কটির জন্য ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পায় ‘নূর এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়সীমা — ২০২৪ সালের জুন — পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর মূল ঠিকাদার পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দায়িত্ব পান রেজাউল করিম লিটন নামে আরেক ঠিকাদার।
কাজের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও, তা শেষ হওয়ার পরও নির্মাণকাজ অসমাপ্ত। বরং, ইতোমধ্যেই গাইডওয়াল নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার ও রাস্তার মেকাডাম ও সাব-বেজে মানহীন খোয়া এবং পোড়া মাটি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল গফুর জানান, ‘চলাচলের একমাত্র রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের ফলে এর স্থায়িত্ব নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অনেক জায়গায় ইতিমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আসলে পোড়া মাটি। সামান্য চাপ দিলেই ভেঙে পড়ে। এমন দুর্বল উপকরণ দিয়ে রাস্তা টেকসই হবে না।’
চরমোনহারপুর গ্রামের আতাউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রডের বদলে বাঁশ দিয়ে গাইডওয়াল বানানো হচ্ছে, যা কিছুদিনের মধ্যেই ধসে পড়বে। আমরা আর কিভাবে চলাচল করব?’
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদের দাবি, ‘এলজিইডির কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদদেই এই অনিয়ম হচ্ছে। দায়ী কেউই জবাবদিহির আওতায় নেই।’
তবে দায়িত্বরত ঠিকাদার রেজাউল করিম লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কাজ এখনো চলমান। সড়কের কাজ শতভাগ নিখুঁত হয় না।’
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির সার্ভেয়ার লতিফুর রহমান জানান, ‘কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজের মান যাচাই করে বিল দেওয়া হবে। আমি নিজেই কাজ তদারকি করছি।’
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী এ এইচ এম কামরুল হাসান রনি বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। এখনই গিয়ে প্রকল্পটি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’