ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি :
ফরিদপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও পাল্টা-সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় পৌর বাস টার্মিনাল এলাকা। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শহরের গোয়ালচামট এলাকার নতুন বাসস্ট্যান্ডে এ সহিংসতা শুরু হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতির কারণে বন্ধ রয়েছে সকল রুটের বাস চলাচল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (১০৫৫)’–এর বিতর্কিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের মাধ্যমে। সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন লাভলুর নেতৃত্বে ‘সকল শ্রমিকের ব্যানারে’ আয়োজিত মানববন্ধনে হঠাৎ করে লাঠিশোটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায় প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের দাবি করা ইয়াসিন মোল্লার অনুসারীরা। তারা ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং অংশগ্রহণকারীদের উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা মানববন্ধনকারী শ্রমিকদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে স্লোগান দেয়। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত সাধারণ শ্রমিকরা দুপুর ১২টার দিকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়।
দুপুর ২টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে গুরুতর আহত হন অন্তত ১০ জন শ্রমিক, যাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, সংগঠনটির মোট সদস্য প্রায় ৭ হাজার ২০০ হলেও মাত্র এক হাজার দুইজন শ্রমিককে ভোটার হিসেবে দেখিয়ে গোপনে নির্বাচন আয়োজন করা হয়। গত ১৭ জুলাই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ইয়াসিন মোল্লাসহ একটি প্যানেলকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এতে বিরোধী পক্ষ অভিযোগ করে, কোনো তফসিল বা ভোটার তালিকা ছাড়াই এই ‘একতরফা’ নির্বাচন অবৈধভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন লাভলু বলেন, “গোপনে নির্বাচন করে ইউনিয়নটি দখল করা হয়েছে। আমরা চাই সকল শ্রমিকের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং হামলাকারীদের বিচার।”
অন্যদিকে ইয়াসিন মোল্লা বলেন, “আমাদের সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয়েছে। আজ আওয়ামী লীগের দোসররা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে মানববন্ধনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শ্রমিকরা তাদের প্রতিহত করেছে।”
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। কেউ কেউ বাসস্ট্যান্ড থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন, আবার কেউ ভোগান্তির মধ্যে পড়েন দূর-দূরান্তের যাত্রাপথে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাত ৯টা পর্যন্ত কোনো সমাধানের খবর পাওয়া যায়নি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছিল।