মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আজ ৩০ জুলাই ২০২৫। আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা ফারিদা আখতার পপি ওরফে চিত্রনায়িকা ববিতা-র ৭২তম জন্মদিন। ১৯৫৩ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বাগেরহাট জেলার এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে। কয়েক দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য দর্শকের হৃদয়ে তিনি স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন তার অসাধারণ অভিনয়গুণ, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে।
শিল্পীজীবনের সূচনাঃ
ববিতার অভিনয়জীবনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বড়বোন সুচন্দার। সুচন্দা অভিনীত জহির রায়হান পরিচালিত “সংসার” সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে। যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি, তবুও এটাই ছিল তার প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো। তখন তার নাম ছিল “সুবর্ণা”।
পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের টেলিভিশন নাটক “কলম”-এও অভিনয় করেন তিনি। এরপর জহির রায়হানের “জ্বলতে সুরুজ কি নিচে” চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে তার নাম হয় “ববিতা” — নামটি প্রস্তাব করেছিলেন প্রযোজক ও ক্যামেরাম্যান আফজাল চৌধুরী এবং তার স্ত্রী।
প্রথম নায়িকা চরিত্র ও টার্নিং পয়েন্টঃ
১৯৬৯ সালে ববিতা প্রথমবারের মতো নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন “শেষ পর্যন্ত” সিনেমায়। এটি মুক্তি পায় ১৪ আগস্ট ১৯৬৯ — যেদিন তার মা ইন্তেকাল করেন। ঐ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি ১২ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পান এবং সেই অর্থে একটি টয়োটা গাড়ি কিনেছিলেন।
তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে জহির রায়হানের পরিচালনায় “টাকা আনা পাই” সিনেমাটি। এরপর নজরুল ইসলামের “স্বরলিপি” ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
সত্তরের দশকজুড়ে ববিতা ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্যা। গ্রামীণ কাহিনি হোক বা শহুরে, সামাজিক নাটক হোক কিংবা অ্যাকশনধর্মী সিনেমা — সব চরিত্রেই তিনি ছিলেন অসাধারণ। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া তরুণদের মাঝে তিনি হয়ে ওঠেন আইকন। অভিনয়ের পাশাপাশি তার স্টাইল ও ফ্যাশনও সমসাময়িক নারীদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল।
পারিবারিক পরিমণ্ডলঃ
ববিতা বেড়ে উঠেছেন এক শিল্পনিষ্ঠ পরিবারে। তার বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পা দুজনেই খ্যাতিমান অভিনেত্রী। তার স্বামী ইফতেখারুল আলমের অকা’লমৃ’ত্যুর পর তিনি একমাত্র সন্তান আনিককে নিয়েই গড়ে তুলেছেন তার জীবন।
ববিতা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে গণ্য হন। তার মতো মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী অভিনেত্রী খুব কমই পাওয়া যায়। তার এই বিশেষ দিনে, আমরা তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ শিল্পীজীবনের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি ববিতা — বাংলার রূপালি পর্দার এক উজ্জ্বল তারা।