আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরান থেকে খনিজ তেল ও সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় জারিকৃত এক নির্বাহী আদেশ অনুসারে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিশেষ করে খনিজ তেল ও রাসায়নিক পদার্থ রপ্তানির মাধ্যমে যে আয় হচ্ছে, তা ব্যবহার করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা ছড়াতে, বিদেশে অস্থিরতা সৃষ্টিতে এবং নিজ দেশের নাগরিকদের দমন করতে। এসব অর্থপ্রবাহ রোধ করতেই ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যেসব প্রতিষ্ঠান এসেছে, সেগুলো হলো, অলকেম রাসায়নিক সল্যুশনস, গ্লোবাল শিল্প রাসায়নিক, জুপিটার ডাই কেম, রমনিকলাল এস গোসালিয়া অ্যান্ড কোম্পানি, পারসিসটেন্ট পেট্রোকেম, কাঞ্চন পলিমার্স।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় লেনদেন করেছে অলকেম রাসায়নিক সল্যুশনস, যারা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে ৮৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ ইরানি রাসায়নিক পণ্য আমদানি করেছে।
গ্লোবাল শিল্প রাসায়নিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত প্রায় ৫১ কোটি টাকার মিথানল আমদানি করেছে।
জুপিটার ডাই কেম একই সময়ে টলুইনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য কিনেছে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার।
রমনিকলাল এস গোসালিয়া অ্যান্ড কোম্পানি মিথানল ও টলুইনসহ পণ্য কিনেছে ২২ কোটি টাকার বেশি।
পারসিসটেন্ট পেট্রোকেম তিন মাসে প্রায় ১৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে।
অন্যদিকে কাঞ্চন পলিমার্স কিনেছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার পলিথিনজাত পণ্য।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এসব প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সম্পদ জব্দ করা হবে। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর কোনো বাণিজ্যিক যোগাযোগ রাখা যাবে না।
এছাড়া, যেসব সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশের বেশি মালিকানা এদের হাতে রয়েছে, তারাও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে অপরিহার্য ছিল। কারণ ইরানি সরকার তাদের এই আয়ের মাধ্যমে অঞ্চলে অশান্তি ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে।