নিজস্ব প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবককে রাতভর থানায় আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ‘গরু চোর’ বানিয়ে হয়রানি করে ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা আদায়ের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হাসান সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। তিনি জানান, গত ২৬ জুলাই কিশোরগঞ্জের একটি হাট থেকে সাতটি গরু কিনে রাতে বাড়ি ফেরার পর এসআই রিপন তাকে ফোন করে থানায় আসতে বলেন। থানায় পৌঁছানোর পর তাকে রাতভর আটক রাখা হয় এবং শুরু হয় চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন।
হাসানের ভাষ্য, “রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক চাপ দেয়া হয়। বলা হয়, গরু চুরি হয়েছে, তুমি জড়িত। পরদিন টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দেয়।”
হাসানের বাবা হাফিজ উদ্দিন জানান, “আমার ছেলেকে থানায় আটকে রেখে প্রথমে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বহু অনুরোধের পর সেটি কমিয়ে আনা হয় সাড়ে ৩ লাখে। শেষমেশ অনেক কষ্টে ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করার পর মুক্তি মেলে।”
এ প্রসঙ্গে হাসানের ভাই মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, “আমরা গরু কেনার রশিদসহ বৈধ কাগজপত্র দেখাই। কিন্তু এসআই আমাদের বলেন, এসব দিয়ে কিছু হবে না, ভাইকে ছাড়াতে হলে টাকা লাগবে। আর টাকা না দিলে ‘মামলায় চালান করে দেবেন’ বলে হুমকি দেন।”
তিনি আরও জানান, টাকা দেওয়ার পরও দ্রুত মুক্তি মেলেনি। বরং সকালে ভিডিও ক্যামেরা চালু করে বাবাসহ তাদের সামনে শেখানো কথা বলিয়ে নেওয়া হয়, যেন তারা স্বীকার করে, পুলিশের কেউ কোনো টাকা নেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই রিপন চন্দ্র সরকার বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। আমার কাছে ভিডিওসহ সব প্রমাণ আছে, যা তদন্তে জমা দেব।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, “গরু চুরির অভিযোগে হাসানকে থানায় আনা হয়েছিল এবং পরদিন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ আদায়ের বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই।”
জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম বলেন, “ঘটনার তদন্তে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহরোয়ার্দী হোসেন জানান, “তদন্ত চলছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”