নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজধানীর বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত এই নেত্রী এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহা. আবু তাহের।
দুদকের কৌঁসুলি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৭ আগস্ট উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজকের দিনটি রায় ঘোষণার জন্য ধার্য করেন।
২০২০ সালের ৪ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে ‘দুদক আইন, ২০০৪’-এর ২৭(১) ধারায় এই মামলা দায়ের করেন। ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
তদন্ত শেষে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যা ২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অনুমোদন পায়।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাপিয়া দম্পতি রাজধানীর বিলাসবহুল ওয়েস্টিন হোটেলের ২৫টি রুমে অবস্থান করে রুম-নাইট, রেস্তোরাঁ, মদ, স্পা, লন্ড্রি, মিনি বার বাবদ ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা নগদে পরিশোধ করেন। একই সময়ে তারা প্রায় ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটাও করেন, যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।
দুদকের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, তাদের মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে- ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাসাভাড়া বাবদ ৩০ লাখ টাকা, গাড়ির ব্যবসায় বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা, নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশনে বিনিয়োগ ২০ লাখ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে জমাকৃত ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮ টাকা, সব মিলিয়ে এই বিপুল অর্থের কোনো বৈধ উৎস প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন পাপিয়া ও তার স্বামী।
মামলার শুরু থেকে পাপিয়া দম্পতি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হোটেলে বিলাসবহুল জীবনযাপন, নগদ লেনদেন ও বিপুল অর্থের উৎস অজানা থাকা, সব মিলিয়ে এই মামলা জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। আজকের রায়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তা জানার অপেক্ষায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষও।