মোহাম্মদ পিয়াস,,
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় বন্যায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির উঠতি ফসলসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল। ফসলের ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। আগামীতে চলবে কিভাবে তা নিয়ে দু:চিন্তায় পড়েছেন তারা। এ মুহুর্তে প্রয়োজন কৃষি ভর্তুকিসহ সার্বিক সহায়তার। কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হওয়ায় দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় সব আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। উঠতি ফসল ধান, পাট, সবজি, ভুট্টা, কলা ও মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। চিলমারী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে আকষ্মিক বন্যায় তাদের আবাদি ফসল ধান, পাট, ভুট্টা, কলা, সবজি ও মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ধান ডুবে যাওয়ায় তারা শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন। এ মৌসুমের আবাদের ধান দিয়ে বছরের অধিকাংশ সময় খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে থাকে চরবাসী। সেই ধানই ডুবে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এদিকে আকষ্মিক বন্যায় পদ্মার চরের প্রায় সব আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ধানের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা রয়েছেন চরম দু:শ্চিন্তায় বলে জানিয়েছেন চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান। বন্যায় কৃষকের ফসলের ক্ষতির বিষয়ে দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যায় চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ১হাজার ১ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরণের ফসলের ক্ষতি হযেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনাসহ সবধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এবারের বন্যায় কুষ্টিয়া জেলায় ১ হাজার ২৯৮ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরণের ফসলের ক্ষতি হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন কৃষি বিভাগ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রণোদনাসহ সার্বিক সহায়তার আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মো. আব্দুল করিম। কৃষকের স্বপ্নের ফসল গোলায় না উঠে তা গিলে খেয়েছে এবারের বন্যা। তাই আগামী দিনগুলি কিভাবে চলবে সে চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। প্রয়োজন সবধরণের সহায়তার।