নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর–এ যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত একাধিক আস্তানা ও অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি এবং ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক) উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া পাইপগান তৈরির একটি লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয় ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব সরঞ্জাম অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হতো।
অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, এপিবিএন ও আরআরএফসহ বিভিন্ন সংস্থার মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য। অভিযানে সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করেন।
এ অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি সাঁজোয়া যান (এপিসি), র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। পুরো অভিযানে নেতৃত্ব দেন মো. আহসান হাবীব পলাশ, যিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানে আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের আস্তানা, অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত একাধিক ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।
অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।