বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
সংসদ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—রাকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, কায়ছার আহমদ, শহীদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সাইফুল আলম ও আবুল হাসনাত। এর আগে এদিন সকাল ১১টা ৫ মিনিটে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ সংসদের প্রথম অধিবেশন।
সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সময়ে সরকার ও বিরোধী দলের সাংসদরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তারেক রহমান এই প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে প্রবেশ করেন। অধিবেশন শুরুতে সংসদ সচিবালায়ের সচিব কানিজ মাওলা কার্যক্রমের সূচনা করেন।
সংসদ নেতা তারেক রহমান দাঁড়িয়ে অধিবেশন শুরুর জন্য একজন সদস্যকে নির্বাচনের কথা বলেন। তিনি প্রবীণ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সভাপতি হিসেবে নাম প্রস্তাব করেন।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ নেতার প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান বিরোধী দলের উপনেতা, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সাংসদরা টেবিল চাপড়ে তাতে সায় দিলে সরকারির দলের প্রথম সারি থেকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন উঠে যান। এরপর সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং প্রোটোকল বজায় রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সার্জেন্ট অব আর্মস স্যালুট দিয়ে খন্দকার মোশাররফকে স্পিকারের আসনে নিয়ে যান।
এরপর ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কাজ এগিয়ে নেওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আয়োজন করে। ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন। সংসদ সচিবালয় পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচি প্রকাশ করে।
এটি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন হওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতিতে বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন।