প্রতিনিধি: মোঃ রুবেল আহমদ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে জব্দকৃত ট্রাক্টর থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের হেফাজতে থাকা এসব গাড়ি থেকে সেলফ-স্টার্টার, ব্যাটারিসহ গুরুত্বপূর্ণ পার্টস গায়েব হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন মালিকরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন অভিযানে আটক ট্রাক্টরগুলো ফাঁড়ির ভেতরেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। তবে ফাঁড়ির পূর্ব পাশে কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে ট্রাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মহিন্দ্র অর্জুন মডেলের ট্রাক্টরগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে যন্ত্রাংশ চুরি হলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। এতে করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মালিকরা জানান, জব্দ হওয়া গাড়ি ছাড়াতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে গাড়িগুলো থেকে একে একে যন্ত্রাংশ উধাও হয়ে যাচ্ছে, ফলে গাড়ি ফিরে পেলেও তা আর আগের মতো ব্যবহারযোগ্য থাকে না। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
এ বিষয়ে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন,
“ফাঁড়ির পূর্ব পাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর ইতোমধ্যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।”
তবে শুধু আশ্বাসে ভরসা রাখতে নারাজ ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের দাবি, জব্দকৃত যানবাহনের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং চুরির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসাথে জব্দকৃত গাড়ি ফেরতের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা না হলে এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, পুলিশের হেফাজতে থাকা সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের আস্থায় ফাটল ধরতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।