নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মধ্যে দিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে। লাখো শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়ের সূচনায় কেন্দ্রগুলোতে ছিল সতর্ক পরিবেশ, আর অভিভাবক ও শিক্ষকদের চোখে ছিল প্রত্যাশার দীপ্তি।
প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র ও সহজ বাংলা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা-২ পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন-যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অংশগ্রহণের এক ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।
পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন করতে এবার নেওয়া হয়েছে একাধিক যুগোপযোগী উদ্যোগ। প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রশ্নপত্র পরিবহনে ‘ডিজিটাল ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ফাঁসের ঝুঁকি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য না থাকে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও নির্ভুল পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বাধিক ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন, কুমিল্লায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৭ জন, যশোরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯ জন, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন, বরিশালে ৮১ হাজার ৮৩১ জন, সিলেটে ৮৯ হাজার ৪২১ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৪ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে, যা এই আয়োজনের ব্যাপকতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সরকার একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। কড়াকড়ি পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।”
এদিকে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে-এমন প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের চোখ এখন আগামী দিনের দিকে।