নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশীয় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতেও জোরালো উদ্যোগ চলছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবন-এ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম লক্ষ্য হলো ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো, যার প্রতিফলন আসন্ন জাতীয় বাজেটেই দেখা যাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ঋণ পরিস্থিতি মূলত আগের সরকারের রেখে যাওয়া দায়ের ফল। ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান চাপের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো ‘ক্যারি-ওভার’ সমস্যায় ভুগছে। ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিক শ্রমিকদের বেতন ও ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।
কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। “আমরা আগের অবস্থানে ফিরে যেতে সময় নেব, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”—বলেন তিনি।
বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, কূটনৈতিক ও পেশাগত—উভয় পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এ একটি ফোকাল পয়েন্ট গঠন করে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতেই এর দৃশ্যমান সুফল পাওয়া যাবে।
এদিকে বিরোধী দলের সদস্য মো. সাইফুল আলম-এর অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় ব্যক্তি বিশেষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি বলেন, সরকার কোনো ‘পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি’তে বিশ্বাস করে না।
সাম্প্রতিক আইন সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এসব পদক্ষেপ আর্থিক খাতকে আরও স্থিতিশীল করবে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পুঁজি প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।
ইসলামী ব্যাংকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন ব্যাংকিং সংশোধনের মাধ্যমে একটি ‘উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রবেশদ্বার’ তৈরি করা হয়েছে। এতে সব শেয়ারহোল্ডার ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ রাখা হয়েছে।
শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোনো একক গোষ্ঠী—যেমন এস আলম গ্রুপ—রাষ্ট্র বা আমানতকারীদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে বিশেষ সুবিধা পাবে না।