নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে ফরিদপুর-১ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বোঝাই, ফেরি থেকে সম্পূর্ণ আনলোডের আগেই নতুন যানবাহন ওঠানোর চেষ্টা, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা গাড়ি ওঠানামা, ফেরি পন্টুনে পর্যাপ্ত রেলিংয়ের অভাব, যাত্রী নামানোর আগেই যানবাহন ওঠানামা এবং সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা।
তিনি আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিসি স্থাপিত ওয়ে স্কেল থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—
নদীর পানির উচ্চতা অনুযায়ী ঘাটে মানসম্মত ঢাল (স্ট্যান্ডার্ড স্লোপ) তৈরি, সারা বছর ঘাটের নিয়মিত মেরামত ও সংরক্ষণ, ফেরিতে ওঠার আগে প্রতিটি যানবাহনের ব্রেকসহ যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা নিশ্চিত করা।
এছাড়া, ফেরি থেকে সব যানবাহন নামানোর পর নতুন করে গাড়ি ওঠানোর নির্দেশনা কার্যকর করা হবে এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, অদক্ষ চালক বা হেলপার দিয়ে কোনো অবস্থাতেই গাড়ি লোডিং-আনলোডিং করতে দেওয়া হবে না।
নিরাপত্তা জোরদারে ফেরি পন্টুনে মজবুত রেলিং স্থাপন, যাত্রীবাহী বাস ও হালকা যানবাহন থেকে যাত্রী নামিয়ে খালি গাড়ি ওঠানামার ব্যবস্থা এবং দৃশ্যমান স্থানে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যানবাহন ওঠানামা সহজ করতে বিআইডব্লিউটিএ কারিগরি বিবেচনায় এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সরকারের এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী।