নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
চট্টগ্রামে “ইতিহাসের পাঠশালা” সংগঠনের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সেমিনার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা একাডেমীর কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে আয়োজিত এ সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী। অধিবেশনে প্রবন্ধ পাঠ করেন লোকসাহিত্য গবেষক ম পানা উল্লাহ। তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য ও ইতিহাসচর্চার নানা দিক তুলে ধরা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে গভীর মনোযোগ সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয় অধিবেশনে উদ্বোধন করেন গবেষক মো: ফখরুল ইসলাম। এ পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ সৈয়দা রুখসানা জামান শানু এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ দেবকন্যা সেন। তারা ইতি
হাসচর্চার আধুনিক ধারা, গবেষণার গুরুত্ব এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী করে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয় পবিত্র কোরআন গবেষক মোহাম্মদ হোসেনের উদ্বোধনের মাধ্যমে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিচারপতি সিকদার মুকবুল হক। প্রধান আলোচক ছিলেন ইতিহাসবিদ সিরাজুল করিম। তারা ইতিহাস, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লেখক ও গবেষক লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়া এবং সভা পরিচালনা করেন ভাষা গবেষক ডা. মআআ মুক্তাদীর। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন-বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান, নির্মাতা অধ্যাপক হেদায়েত উল্লাহ তুর্কি, সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও লোকসাহিত্য গবেষক অ আ আবীর আকাশসহ আরও অনেকে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলমগীর হোসেন, মো: কামাল হোসেন, গোলাম আকবর, গোলাম মোস্তফা, ডা. মো: মুসলিম, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, ফজলুল মল্লিক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন “ইতিহাসের পাঠশালা” সংগঠনের সম্পাদক সোহেল মো: ফখরুদ্দীন। পুরো আয়োজনটি ছিল সুসংগঠিত ও প্রাণবন্ত, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেন।
সেমিনারের বক্তারা বলেন, ইতিহাস কেবল অতীতের গল্প নয়, বরং জাতির পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। তাই ইতিহাসচর্চাকে আরও বিস্তৃত ও গবেষণাভিত্তিক করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী করে তোলার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এই সেমিনারটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ইতিহাসচর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং নতুন প্রজন্ম এর সাথে সম্পৃক্ত হবে।