নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটিতে গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
অফিস-আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দিন ও রাতের অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এক পরীক্ষার্থী মো. নকিব হাসান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। গরমের মধ্যে বারবার লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আরেক পরীক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান জানান, এ অবস্থায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে গরমের তীব্রতায় শ্রমজীবী মানুষও দুর্ভোগে পড়েছেন। ঠেলাগাড়ি চালক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরমে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে আয়ও কমে গেছে।
রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক বলেন, পরীক্ষার সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে মাত্র একটি ইউনিট সচল আছে, যা থেকে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, পানির ঘাটতির কারণেই উৎপাদন কমে গেছে। বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন ২৩ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।