আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১১ ডলার ছাড়িয়েছে, আর মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডাব্লিউটিআই ক্রুড ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডাব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ৩.৬৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১১১.২ ডলারে পৌঁছেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেক মানদণ্ড ‘মুরবান’ ক্রুডের দামও বেড়ে ১০৭ ডলারের বেশি হয়েছে। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া ওপেক এবং ওপেক প্লাস জোট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্ভাব্য সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। ১ মে থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা তেলের সরবরাহ ও উৎপাদন নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এর ফলে তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশ্বব্যাংক এবং এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ইঙ্গিত দিয়েছে, চলতি বছর জুড়ে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে এই প্রবণতা আরও জোরালো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকতে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। তথ্যসূত্র : গালফ নিউজ