গাজা উপত্যকার উত্তরের একটি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবারের হামলায় নিহত হন অন্তত ৩৮ জন। এদিনের হামলায় একটি মসজিদ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতাল। এদিকে লেবাননজুড়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ হামলায় আরও ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বৈরুতে হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। আহত ৬০ জনেরও বেশি।
ফিলিস্তিনের গাজার নুসেইরাতে একটি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি খান ইউনিসসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শনিবার লাগাতার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। আসরের নামাজের পর এ হামলা চালানো হয়। বিধ্বস্ত মসজিদের ধ্বংসস্তুপ থেকে পবিত্র কোরআন শরীফের বিচ্ছিন্ন পাতা উদ্ধারের চেষ্টা করেন এলাকাবাসী। এছাড়া হামলায় ক্ষক্তিগ্রস্ত হয়েছে কামাল আদওয়ান হাসপাতালের অনেকটা অংশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরাইলের বিমান হামলায় আল-ফারুক মসজিদে উল্লেখ করার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মসজিদটি গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের ভেতরে অবস্থিত। আল–জাজিরা ভিডিওটি যাচাই করে সত্যতা পেয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলার পাশাপাশি গাজায় স্থলাভিযানও জোরদার করেছে। গাজার উত্তরাঞ্চলে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে এখন পর্যন্ত আংশিকভাবে হলেও চিকিৎসার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হাসপাতালগুলোর একটিতে হামলা হয়েছে, আহত হয়েছেন হাসপাতালের বেশ কয়েকজন কর্মী।
একইদিনে খান ইউনিসসহ গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরাইল। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালগুলোর বাইরের পরিবেশ।
গত মাস থেকে গাজার উত্তরাঞ্চল অবরোধ করে পুনরায় স্থলাভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের ওই এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হওয়া এবং আরও হামলা চালানো থেকে প্রতিহত করতে এ অভিযান পরিচালনা করছে।
এদিকে, স্থানীয় সময় শনিবার বৈরুতের বাস্তা এলাকায় পাঁচটি শক্তিশালী মিসাইল নিক্ষেপ করে ইসরাইল। এ হামলায় তছনছ হয়ে যায় পুরো এলাকা। ধসে পড়ে একটি আটতলা ভবন। হতাহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন। এছাড়াও বৈরুতের হাদাত, চৌইফাত ও টায়ার এলাকায় বিমান হামলা চালায় নেতানিয়াহু বাহিনী।
আল জাজিরা জানিয়েছে, বৈরুতের মধ্যাঞ্চল এবং উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদফা বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। একটি আবাসিক ভবনে ছয়টি মিসাইল হামলা চালায় ইসরাইল। এতে পুরো ভবন ধসে পড়েছে। এসব হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে।
অপর একটি হামলায় চার জন নিহত হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৬৪৫ জন নিহত হয়েছেন।
তবে, লেবাননের খিয়াম ও আল-বায়াদা এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের প্রতিহত করে হিজবুল্লাহ। একটি মেরকাভা ট্যাঙ্ককে গাইডেড মিসাইল দিয়ে ধ্বংসের দাবি করেছে সশস্ত্র সংগঠনটি। ইসরাইলের হাইফায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মিসাইল নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ।
ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ৩০টি রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তারা গ্যালিলি অঞ্চলে রকেট শনাক্ত করেছে। কিছু রকেট প্রতিহত করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষতিগ্রস্ত রকেট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব হামলার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- তার রিপোর্ট করেছে ইসরায়েলি মিডিয়া। এ ছাড়া হামলায় শুধু একজনের আহতের খবর পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। তাদের লক্ষ্য ছিল লিটানি নদীর দক্ষিণ দিক থেকে লেবানের সীমান্ত পর্যন্ত ৫০০ স্কয়ার কিলোমিটার অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেয়া। তবে ইসরাইলি সেনারা এই লক্ষ্যের ধারে কাছেও নেই বলে জানিয়েছেন মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির কথা বলে আসলে সময় নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এই সময়ের মধ্যে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে।