নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল। এখানকার একজন ছাত্রনেতা নেতা মাহবুব আলম শাহিন। করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতি। শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবেই নয়, মানবিক কাজের জন্যও তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিত।

বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে তার সাহসী নেতৃত্বের জন্য যিতি ইতোমধ্যে ছাত্রদলের কাছে ২৪-এর যোদ্ধা নামে পরিচিত। শাহিন বর্তমানে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি।
সম্প্রতি তার একটি উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি বসিলার এক অসহায় রিকশাচালক বাবুল ঢালিকে একটি নতুন ভ্যানগাড়ি উপহার দিয়েছেন।
রিকশাচালক বাবুল ঢালি বসিলার গার্ডেন সিটির বাসিন্দা এবং বিএনপির একজন কর্মী। তিনি ভাড়া নেয়া রিকশা চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন। নেই নিজস্ব রিকশা। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমে আয়ের একটা বড় অংশই দিতে হয় রিকশার মহাজনকে।
জুলাই অভূত্থানে রিকশা নিয়েই সক্রিয় ছিলেন বাবুল। আন্দোলনে আহত ছাত্রদের রিকশায় করে হাসপাতালে পৌঁছে দিতেন। তার এই মানবিক উদ্যোগ মাহবুব আলম শাহিনের নজরে আসে। শাহিন তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন বাবুল ঢালির আর্থিক দুর্দশার কথা।
সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেন বাবুল ঢালির জন্য একটি ভ্যানগাড়ি কেনার। শাহিনের ভাষায়, “শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতিই আমাকে মানবিক হতে শিখিয়েছে। যখনই সুযোগ পেয়েছি, চেষ্টা করেছি পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনকে সহজ করতে। আজকের এই ছোট্ট উপহারটি যদি বাবুল মামার পরিবারের খুশি আনতে পারে, তাতেই আমি খুশি।”
গত ২২ শে নভেম্বর ২০২৪ খ্রি, শুক্রবার সকাল ১১ টায় ঢাবির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের প্রধান ফটকে সামনে এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে বাবুল ঢালির হাতে নতুন ভ্যানগাড়িটি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, যার মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য মাহবুবুর রহমান, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের কর্মী সামসুল হক আনান, এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল ছাত্রদলের কর্মী ওয়ালিউর রহমান।
ভ্যানগাড়িটি পেয়ে আবেগাপ্লুত বাবুল ঢালি বলেন, “ভ্যানগাড়িটি আমার জীবনের বড় সহায় হয়ে দাঁড়াবে। এই যানবাহনটি শুধু আমার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য নয়, এটি আমার মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছে। আমি ছাত্রদল বিশেষ করে শাহিনের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ।”
রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ—এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মাহবুব আলম শাহিন। শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, মানুষের জন্য কাজ করে যে একজন ছাত্রনেতা কীভাবে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন, তার উদাহরণ হয়ে রইলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শাহিনের এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের ছাত্রনেতাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।