ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রধান আসামী চন্দনকে গ্রেফতার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। ৪ ডিসেম্বর বুধবার রাত ১১ টায় ভৈরব রেলওয়ে জংশন এলাকার পানির ট্যাংকির পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

আটক আসামী চন্দন চট্রগ্রাম কোতোয়ালি থানার মেথরপট্টি সেবক কলনী বান্ডেল রোড় এলাকার মৃত ধারী এর ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে থাকা তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন। থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৬ নভেম্বর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানায় চনন্দকে প্রধান আসমী করে ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। মামলার পর থেকে সারা দেশের প্রশাসনের বিশেষ তৎপরতা চালায়। ৪ ডিসেম্বর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহীন এর নেতৃত্বে শহর ফাঁড়ী পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই সাইফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে থাকা তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, চন্দন ভৈরব সুইপার কলনীতে তার শ্বশুর নন্দু বর্মণের বাড়িতে যাওয়ার জন্য এসেছিল। সে চট্রগ্রাম থেকে ট্রেনে এসে ভৈরব স্টেশনে পানির ট্যাংকি সামনে দাঁড়িয়ে ছিল শ্বশুর বাড়িতে আসবেন বলে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়। চন্দনকে চট্রগ্রামের কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। জানা যায়, ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাসকে কারাগারে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রধান আসামী চন্দ্রন ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, কোতোয়ালি থানার বান্ডেল রোড সেবক কলোনি এলাকার বাসিন্দা আমান দাস, শুভকান্তি দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত, রুমিত দাস, নয়ন দাস, গগন দাস, বিশাল দাস, ওমকার দাস, বিশাল, রাজকাপুর, লালা, সামির, সোহেল, শিবকুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, দুর্লভ দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য।