মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া:
চাঁদপুর সদর উপজেলা চান্দ্রা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিঙ্গুলিয়া বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদ কমিটি ও যুব সমাজের উদ্যোগে পূর্ব বাখর পুর মসজিদ সংলগ্ন খান বাড়ি মাঠে বার্ষিক ওয়াজ দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারী) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তির লক্ষ্যে লক্ষ্যে মাহফিলে আলোচনা হয়।
মসজিদ প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আলহাজ্ব ক্বারী আব্দুল লতিফ খানের সভাপতিত্বে ও ইঞ্জিনিয়ার মোহাসিন খানের সঞ্চালনায় মাহফিলে ইসলামী চিন্তাবিদগণ বয়ান পেশ করেন।
ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি ও ঐক্যের বিষয় মাহফিলে বক্তারা বলেছেন,ইসলাম মানুষের শান্তি, সুখ, এবং কল্যাণের জন্য একটি সুদৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন,
“তোমরা পরস্পর শান্তির পথে এগিয়ে যাও এবং সৎকর্মে একে অপরকে সাহায্য করো।” (সূরা মায়িদাহ, ৫: ২)
ইসলামে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামী সমাজে আইনের শাসন, অপরাধ দমন এবং সব মানুষের মধ্যে সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিবারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে শাসিত করে। পরিবার হলো শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ক্ষেত্র। পরিবারে সুশৃঙ্খলতা ও সমঝোতা নিশ্চিত করলে সমাজে স্থিতিশীলতা আসবে।
গরীবদের সহায়তা করা এবং প্রতিবেশীর প্রতি সহানুভূতি দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি সঠিক দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা মানুষকে স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করার এবং অন্যদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত হওয়ার নির্দেশ দেয়। মুদ্রার লোভ, ঋণের অযথা চাপ বা বৈষম্য এড়িয়ে চলার আহ্বান করা হয়।
আখেরাতের কল্যাণ বা পরকালের শান্তি মুসলিম জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। ইসলাম বিশ্বাস করে যে, আমাদের কাজের ফলাফল পরকালে প্রদান করা হবে।
“যারা বিশ্বাস রাখে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়াতে সুখী জীবন এবং আখেরাতে পরিপূর্ণ পুরস্কার।
আখেরাতে শান্তি লাভের জন্য আল্লাহর আদেশ পালন করা অপরিহার্য। ইসলামে পূর্ণাঙ্গ ইবাদত, নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ এবং অন্য ধর্মীয় দায়িত্বগুলো পালন করতে হবে।
আখেরাতে আল্লাহ সবার কাজের বিচার করবেন। যারা ন্যায়ের পথে চলবে, তাদের জন্য জান্নাতের মুক্তির নিশ্চয়তা আছে, এবং যারা অন্যায় করবে, তারা দুঃখ-যন্ত্রণায় পড়বে। তাকওয়া (আল্লাহকে ভয় করা) এবং ধৈর্য ধারণের উপর জোর দেয়।
বিশ্ব মুসলিম সমাজের শান্তি ও ঐক্য ইসলামের প্রধান লক্ষ্যগুলির মধ্যে একটি। মুসলিম উম্মাহ যদি একত্রিত থাকে এবং তাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তারা পৃথিবীতে শক্তিশালী ও সুস্থ সমাজ গড়তে সক্ষম হবে।
মুসলিমদের মধ্যে একতা ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। মুসলিমদের মধ্যে সবার জন্য সমান অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্মান থাকা উচিত।
ইসলামে অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহনশীলতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। মুসলিমরা নিজেদেরকে শান্তিপূর্ণ সমাজে অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখতে হবে, যারা মানবতার কল্যাণে কাজ করছে।
মুসলিমরা যেহেতু শান্তির ধর্মের অনুসারী, তাদের উচিত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা, যুদ্ধ ও হিংসা পরিহার করা এবং সমাজে সহনশীলতা বৃদ্ধি করা। ইসলামের উদ্দেশ্য মানবজাতির দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ, শান্তি, এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। এটি সকল মুসলিমের দায়িত্ব, যে তারা ইসলামের মূল্যবোধকে গ্রহণ করে এবং তা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে কেবল নিজেদের জীবনের উন্নতি নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ইসলামিক আলোচক, মাওলানা মনিরুল ইসলাম মজুমদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এটিএন বাংলা ও এন টিভির ইসলামী আলোচক, মাওলানা হাফেজ মোঃ জসিম উদ্দিন চাঁদপুরী, গাজীপুর হরিপুর নেচারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূর মোহাম্মদ খান,ফরিদগঞ্জ ইসলামপুর শাহ ইয়াছিন ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম খান, মুন্সিগঞ্জ দারুস সালাম সালেহীয়া মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক মাওলানা মোঃ ইসমাইল খান, পশ্চিম ভিঙ্গুলিয়া বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা জামাত ইসলামের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহাজান মিয়া, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এমদাদুল হক খান ও সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান।