আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কঙ্গোর বৃহত্তম শহর গোমাতে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) অনুপ্রবেশ করেছে রুয়ান্ডা সমর্থিত বিদ্রোহীরা। এতে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান সংঘর্ষ গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক দিকে মোড় নিলো। জাতিসংঘের দাবি, বিদ্রোহীদের সঙ্গে কয়েকজন রুয়ান্ডার সেনা রয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব খবর জানা গেছে।
তুতসি গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন এম ২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠীর নির্দেশনায় পরিচালিত একটি বিদ্রোহী জোট জানিয়েছে, তারা গোমা শহরের দখল নিয়েছে।
শহরটিতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বাস। তাদের বেশিরভাগই উদ্বাস্তু। রুয়ান্ডার সীমান্তবর্তী এই শহরে ত্রাণকর্মীরা নিয়মিত ত্রাণ সরবরাহ করেন। এরআগে ২০১২ সালে এম ২৩ এই শহরের দখল নিয়েছিল।
বিদ্রোহী জোট কঙ্গো রিভার অ্যালায়েন্সের নেতা কর্নেলিয়া নানগা রয়টার্সকে বলেছেন, পুরো শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বক্তব্য গ্রহণের সময় চারদিক থেকে বিস্ফোরণ ও ভারী গোলাগুলির আওয়াজ আসছিল। ফলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নানগার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে সমর্থ হয়নি রয়টার্স।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় কঙ্গোর গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী মুহিন্দো নাজানগি বলেছেন, গোমার প্রায় ৮০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণে আছে কঙ্গোলিজ সেনাবাহিনী। আর রুয়ান্ডার সেনারা শহরের বাইরের দিকে বা দেশের সীমানার বাইরে অবস্থান করছে।
তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কঙ্গোলিজ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরের ৯০ শতাংশ বিদ্রোহীদের হাতে চলে গেছে।
ওই অঞ্চলে কর্মরত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রধান জ্যঁ পিয়েরে ল্যাকরোয়িক্সদাবি করেছেন, এম ২৩ কে সমর্থন দিতে রুয়ান্ডার কয়েকজন সেনা গোমায় অবস্থান করছেন। তবে তাদের সঠিক সংখ্যাটা অনুমান করা মুশকিল।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মঙ্গলবার এই সংকট নিয়ে আবার বৈঠক করবে বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন। এর আগে রবিবার এ বিষয়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কঙ্গোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিরাপত্তা পরিষদকে আরেকটি বৈঠকের জন্য সোমবার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও রুয়ান্ডার সেনাদের প্রত্যাহার কামনা করছে।