নিউজ ডেস্ক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার গিয়ে তিনি রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে নির্জনে ভাবনার সুযোগই খুঁজছিলেন। দলের শোকজ নোটিশের জবাবে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
৫ আগস্ট ‘স্বৈরাচার পতনের বর্ষপূর্তি’ ও ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের দিনে কক্সবাজার সফর করেন এনসিপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে, তারা নাকি সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে কক্সবাজারের একটি হোটেলে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। যদিও পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায়—সেই সময় পিটার হাস ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। গুজবের অবসান হলেও, সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে দল থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
এর জবাবে ৭ আগস্ট নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, তার সফর ছিল একান্ত ব্যক্তিগত এবং দলীয় কোনো কর্মসূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তিনি বলেন, “ঘুরতে যাওয়া অপরাধ নয়। কারণ ইতিহাস কেবল মিটিংয়ে নয়, অনেক সময় নির্জন চিন্তার ঘরে বা সাগরের পাড়েও জন্ম নেয়।”
বিবৃতিতে তিনি ব্যাখ্যা করেন, ৪ আগস্ট রাতেই তিনি দলীয় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে সফরের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন এবং নিশ্চিত হয়েছিলেন, পরদিন তার কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব নেই। সেই প্রেক্ষিতে তিনি ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সফরসঙ্গী ছিলেন সস্ত্রীক সারজিস আলম ও তাসনিম জারা-খালেদ সাইফুল্লাহ দম্পতি।
নাসীরুদ্দীন লেখেন, “সাগরের পাড়ে বসে আমি গভীরভাবে চিন্তা করেছি গণঅভ্যুত্থান, নাগরিক কমিটি, নাগরিক পার্টির কাঠামো এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান নিয়ে। আমি এটিকে কোনো অপরাধ মনে করি না, বরং একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য এটি একটি দায়িত্বশীল মানসিক চর্চা।”
ভুয়া গুজব ছড়ানোর পেছনে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “এটি আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা মাত্র।”
শেষে তিনি লেখেন, “শোকজ নোটিশটি বাস্তবভিত্তিক নয়। তবু দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে এই জবাব প্রদান করছি— অসভ্য জগতে সভ্যতার নিদর্শন হিসেবে।”