এস. এম. রুহুল তাড়াশী, স্টাফ রিপোর্টার:
একসময় অবহেলার পণ্য হিসেবে গণ্য হলেও বর্তমানে তাড়াশে পাটখড়ির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ও শিল্পকারখানায় বহুমুখী ব্যবহারের ফলে কৃষকেরা এখন শুধু পাট নয়, পাটখড়ি বিক্রি করেও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে জ্বালানি, চারকল, পার্টিকেল বোর্ড মিল ও নানান হস্তশিল্প তৈরিতে। বাড়িঘর নির্মাণে, সবজি ক্ষেতের বেড়া ও মাচা বানাতে কিংবা পান বরজ সাজাতেও পাটখড়ির ব্যবহার দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিল্পকারখানার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর আর্থিক গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি পাটখড়ির আঁটি রোদে শুকাতে দিয়েছেন কৃষকেরা। শুকানোর পর এসব পাটখড়ি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের বাড়ি থেকে কিনে নেন। পরে ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এভাবে কৃষকেরা পাচ্ছেন বাড়তি আয়, আর অনেক গ্রামীণ মানুষ পাটখড়ি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।
কালিদাশ নিলী গ্রামের কৃষক সালাম প্রামানিক বলেন, “৫০ শতক জমির পাট থেকে পাওয়া পাটখড়ি শুকিয়ে বিক্রি করতে পারলে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয় করা যায়। যদি সরাসরি চারকল বা বোর্ড ফ্যাক্টরিতে দেওয়া যায়, তবে আরও ভালো দাম মেলে।”
জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পাটখড়ি পুড়িয়ে এর ছাইও কাজে লাগছে কৃষিজমিতে সার হিসেবে। ফলে কৃষকরা দ্বিমুখী সুবিধা পাচ্ছেন।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয় ৯৮ হাজার ৪১৫ বেল। ইতিমধ্যে এ অঞ্চলে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু দেশীয় চাহিদা মেটানোই নয়, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত পাটখড়ি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানায় যাচ্ছে এবং সীমিত আকারে রপ্তানিও শুরু হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পাটখড়ি আর কেবল অবহেলার পণ্য নয়; বরং কৃষকদের বাড়তি মুনাফার অন্যতম উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।