আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে ইরান–সম্পর্কিত যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলকে জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেল আবিবকে জানানো হয়েছে, এই সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বদলে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় চলতি সপ্তাহে বড় কোনো অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং আলোচনার গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ তিনি চান ইরান নিজস্ব অবস্থান পরিষ্কার করুক।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, আলোচনায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে, তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।