আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের নিমিটজ-শ্রেণির সুপারক্যারিয়ার ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের নিকটবর্তী অঞ্চলে পৌঁছে সেন্টকমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় প্রবেশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, বিশাল এই মার্কিন রণতরি ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের কৌশলগত শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই রণতরির অবস্থান পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট করেনি পেন্টাগন। এটি আগের মোতায়েন থাকা নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত হবে, নাকি কোনো জাহাজের স্থলাভিষিক্ত হবে—সে বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে।
এরই মধ্যে জানা গেছে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ লোহিত সাগরে অবস্থান করে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সময়ে দুটি সুপারক্যারিয়ারের উপস্থিতি ইরান ও তার মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এমন শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-অবরোধ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার অংশ।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সম্প্রসারিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এই উপস্থিতিকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও বিশ্লেষকরা একে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন।
নিমিটজ-শ্রেণির এই রণতরির মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখী অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগন সূত্র অনুযায়ী, আগামী দিনে এর কার্যক্রম ও অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় সামরিক উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন এই রণতরির উপস্থিতি নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।