নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনও কার্যকর হয়নি মামলার চূড়ান্ত রায়। আপিল বিভাগের ধীরগতির কারণে বিচার প্রক্রিয়া আটকে থাকায় নিহতদের পরিবারে বাড়ছে ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি।
২০১৪ সালের এই দিনে আদালতে হাজিরা শেষে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত মামলার রায় ঘোষণা করে। এতে প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালে উচ্চ আদালত ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তবে সেই রায়ের পর থেকেই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ঝুলে আছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও ন্যায়বিচার অধরাই রয়ে গেছে। তার ভাষায়, “সব কিছু প্রমাণিত হওয়ার পরও রায় কার্যকর না হওয়া আমাদের জন্য গভীর বেদনার।”
অন্যদিকে, তাজুল ইসলামের ভাই রাজু আহমদ প্রশ্ন তুলেছেন, কী অদৃশ্য শক্তির কারণে বছরের পর বছর মামলাটি ঝুলে আছে। তার দাবি, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।
আইনজীবীদের মতে, দণ্ডপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এই বিলম্বের অন্যতম কারণ হতে পারে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দ্রুত রায় কার্যকর করা গেলে দেশে গুম ও হত্যার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা যাবে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খাঁন জানান, আপিল নিষ্পত্তির জন্য তারা উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এমন একটি আলোচিত মামলার বিচার কার্যকর না হওয়া দেশের আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত। তাদের মতে, ন্যায়বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই তা অস্বীকার করার শামিল।
এক যুগ পেরিয়ে গেলেও প্রশ্ন একটাই—এই মামলার রায় কবে বাস্তবায়ন হবে, আর কবে মিলবে ন্যায়বিচার?