চিলমারী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:
‘আয়শা হত্যাকারীকে গ্রেফতার করো’, ‘তুমি কে আমি কে-আয়শা আয়শা’, ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাহিরে’-এমনন বুক ভাঙা, বেদনাভারাক্রান্ত স্লোগানে সোমবার সকালে কেঁপে ওঠে কুড়িগ্রামের চিলমারী। শিশু আয়শার নির্মম হত্যাকা-ের প্রতিবাদ আর ন্যায়বিচারের আকুতিতে এলাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচীতে রাজপথে নেমে আসে হাজারো মানুষ। শোক আর ক্ষোভ মিশে একাকার হয়ে ওঠা সেই অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি যেন হয়ে ওঠে একটি জনপদের নীরব কান্নার উচ্চারণ।
এদিকে সোমবার সকাল ১০টা থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড হাতে জড়ো হন। ন্যায়বিচারের দাবিতে তারা প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। সেখানে ক্ষোভ ও বেদনায় ভেঙ্গে পড়া এলাকাবাসী দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
পরে বিক্ষোভকারীরা একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসানের কাছে প্রদান করে চিলমারী মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় উপস্থিত অনেকেই আয়শার নির্মম হত্যাকারে বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকৃত খুনিরা ধরা পড়েনি, ফলে জনমনে ক্ষোভ ক্রমই বাড়ছে।
প্রায় আধাঘণ্টা থানার সামনে অপেক্ষা করেও থানা পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না দেখে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদের সামনে সড়ক অবরোধ করে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তবুও বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পরে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।
অবরোধের সময় এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন সরকার শিরিন। তিনি বলেন,‘একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে-এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য লজ্জার বিষয়। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো গড়িমসি সহ্য করা হবে না। বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
নিহত আয়শার পিতা মো. আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,‘আমার ছোট মেয়েটাকে নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ সন্দেহভাজন আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।’
এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার বলেন,‘পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। তদন্তকার্যক্রম চলমান আছে, ঘটনা নেপথ্যের কারণ ও প্রকৃত আসামীদের ধরতে আমাদের টীম কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বাড়ির পাশে খেলছিল দুই বছর বয়সী ছোট্ট আয়শা খাতুন। হঠাৎই নিখোঁজ হয় সে। দিনভর আশপাশের সব এলাকায় তল্লাশি করেন স্বজনরা। কোথাও মেলেনি শিশুটিকে। কিন্তু রাতে বাড়ির পাশেই পাওয়া যায় আয়শাকে। তবে শরীরে তার প্রাণ নেই, চোখ ছিলো উপড়ানো। মর্মন্তুদ এই ঘটনাটি ঘটে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকায়।