নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বিভিন্ন সময়ে দেশের রাষ্ট্রনায়কদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন আমজনতা দলের সচিব তারেক রহমান। সেখানে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দোয়া কামনা করেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারের নীতি ও উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের পর কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে সৈন্য প্রত্যাহার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ১৯৭২ সালের মধ্যেই ভারতীয় বাহিনী প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়—যা দেশের সার্বভৌম অবস্থান সুসংহত করতে ভূমিকা রাখে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এরপর তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়কালে মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সেই সময় শ্রমবাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের শ্রমিকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে বড় আকারে বিকশিত হয়।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সেনাদের অংশগ্রহণ শুরুর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার সময় নারীশিক্ষা প্রসারে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তার ভাষ্যে, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করার উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কৃষকদের ঋণ মওকুফসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব উদ্যোগ কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
সবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের বড় এ অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের জন্য দোয়া করা উচিত।
তার পোস্টে সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন সময়ের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন উদ্যোগ ও নীতিগত পদক্ষেপের একটি ধারাবাহিক মূল্যায়ন উপস্থাপিত হয়।