বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে এলিট ফোর্সটি। তাদের দাবি, র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে কেবল টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে।
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের শেষ দিকে রাজধানীর আকাশে টহলে দেখা যায় র্যাবের একাধিক হেলিকপ্টার। ঢাকার রাজপথে যেমন ছিলো পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন আর বিজিবির সশস্ত্র অভিযান; তেমনি বিভিন্ন এলাকার আকাশে ছিলো র্যাবের হেলিপ্টারের আনাগোনা।
বাসার বারান্দা ও বাড়ির ছাদে হতাহতের বিভিন্ন ঘটনায় র্যাবের হেলিকপ্টারকে দায়ী করেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ ওঠে, হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে প্রাণ যায় শিশুসহ কয়েকজনের।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে র্যাব। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুনিম ফেরদৌস বলেন, হেলিকপ্টার থেকে কোনো গুলি চালানো হয়নি। কেবল টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে ।
মুনিম ফেরদৌস বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় যাদের সম্পৃক্ততা আছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যারা হেলমেট পরা অবস্থায় হামলায় অংশ নিয়েছিল, তাদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে।
এসময় আন্দোলনের সময় র্যাব হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, গুলি নয়, হেলিকপ্টার থেকে শুধু টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। র্যাবের কোনো সদস্য পালিয়ে যায়নি দাবি করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা কর্মবিরতিতে গেলেও কোনো র্যাব সদস্য কর্মবিরতিতে যাননি বা পালিয়ে যাননি।
পূজাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো নাশকতা না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য প্রতিমা বিসর্জনের দিন নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে র্যাব ব্যর্থ কি না, এই প্রশ্ন এড়িয়ে যান র্যাবের এই মুখপাত্র।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাগর-রুনির মামলাটি গতিশীল করার জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনে টাস্কফোর্সকে সহায়তা করবে র্যাব। এদিকে আসন্ন দূর্গাপূজাকে ঘিরে নানা রকম উসকানি রয়েছে। তবে পূজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশেই স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে র্যাব। বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কমান্ডো টিম,বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।