নিজস্ব প্রতিবেদক:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আপনি যতদিন আছেন ততোদিন আপনার প্রধান কাজ হচ্ছে একটা ভালো নির্বাচন দেয়া। একটা ভালো নির্বাচন করলে ড. ইউনূস আরও বড় হবে। কিন্তু নির্বাচনটা যদি ঠিকভাবে দিতে না পারেন তাহলে মানুষ ভাববে আপনি নোবেল পেতে পারেন কিন্তু আপনি রাজনীতির কিচ্ছু জানেন না।
রবিবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে ‘জাতীয় নির্বাচন-নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই দেশ গড়ার পথে যেই সহযোগিতা লাগে আমরা দিবো। কিন্তু আপনাদের এটা বলতে হবে আপনারা এইযে দেশটা বদলাবেন, নতুন বাংলাদেশ গড়বেন সেটা কিভাবে ? যাতে আপনাদের সাথে আমাদের মিলে। নাহলে আপনারা আপনাদের মতো করবেন আমরা আমাদের মতো করবো তাহলে দেশ গড়তে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত আপনিতো ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। এটাতো বিধানেই নাই। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার জন্য খুব একটা লোভী নন। তাহলে উনি এখানে থাকবার চেষ্টা করবেন এটা আমি বিশ্বাস করি না, মানুষ বিশ্বাস করে না। কিভাবে তারাতাড়ি ক্ষমতাটা দিয়ে দিতে পারবেন সেটা করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই সরকারকে আমরা নিরংকুশ সমর্থন করছি না। এই সরকারকে আমরা শর্তসাপেক্ষ সমর্থন দিচ্ছি। কিন্তু শর্তের মধ্যে তাদের আটকে ফেলছি না। আপনি কাজ করতে থাকেন। কিন্তু আপনাকে বলতে হবে আপনি কী অনির্দিষ্ট ক্ষমতায় থাকবেন ? কতদিন থাকবেন ? ড. আসিফ নজরুল বলেছেন আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন দেয়া যাবে। এটা কিন্তু উনি (আসিফ নজরুল) বলেছেন। তবে শেষ কথাটা কিন্তু ড. ইউনূস বলবেন। তাহলে আমি বলতে পারিনা ড. ইউনূস শেষ কথাটা বলেন, তাড়াতাড়ি বলেন। আসিফ নজরুল যেটা বললো সেটাই হবে নাকি অন্য কোন কথা আছে ? জবাব দিতে হবে।
বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমরা এ সরকারকে সমর্থন দিয়েছি ভালো কাজ করার জন্য। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার জন্য যেখানে যা সংস্কার করা দরকার করতে হবে। তবে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। রাজনৈতিক নির্বাচিত সরকার ছাড়া কোন ভালো কাজ এগিয়ে নেয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। বর্তমান সরকারের যারা আছেন তারা বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর মানুষ একটা ভালো কাজের জন্য এসেছে। তাদেরকে আমরা নির্বাচনের কথা বলেছি। তারমানে এই নয় কালই নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট করণ করতে হবে। যে কারণে আমরা নির্বাচনের রোড ম্যাপ এর কথা বলেছি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যে কোনো সময় বাজারের আগুন রাজপথে ছড়িয়ে যেতে পারে। বাজার এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ জিনিস এখনো ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। স্বৈরতন্ত্র বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাসিনা মানুষকে বিপদে ফেলে গেছে। আওয়ামী সিন্ডিকেট এখনো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা আর এই সরকারের অজুহাত শুনতে চাই না। এখন সরকারের সাথে সিন্ডিকেটের সাথে সম্পর্ক নেই। আমরা অনতিবিলম্বে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেখতে চাই। বাজারকে প্রতিযোগীতার মধ্যে নিয়ে আসেন। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সংস্কারের কোনো কিছুই কার্যকর হবে না। পেট খালি থাকলে মানুষ কোনো কথা শুনবে না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানুষ আপনাদের কোনো কথা শুনবে না।
দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভাষানী পরিষদের আহবায়ক বাবলু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।