“প্রজন্ম”
ফেরারী ফরহাদ
এখনো অচেনা হয়নি ধুলি উড়া পথের মোড় –
ভর দুপুরে বাঁশ বাগানের ক্যাক ক্যাক শব্দ –
মেঘে মেঘে খেলা করা আধখানা চাঁদের মুখ ।
এখনো দেলু চৌকিদার এর হুইসেল এর সাথে পাল্লা দেয়া
শেয়ালের ডাক কিংবা ঝিঁঝিঁ পোকার আর্তনাদ
কোন কিছু ই অচেনা হয়নি ।
অচেনা হয়নি জোড়া তাল গাছের ভয়ংকর সুদীর্ঘ ছায়া
বৈশাখী মাতমে ছিটকে পড়া বাবুই পাখির বাসা –
তালের নৌকায় পড়ে থাকা বেয়ালার কুচকুচে পুরনো জাল।
অচেনা হয়নি বৃষ্টির শীতলতা – গরমের তীব্রতা
কুয়াশার আচ্ছন্নতা – হেমন্তের মুগ্ধতা
কোন কিছু ই অচেনা হয়নি ।
দাদী জানের লোহার পান ছেঁচুনি থেকে শুরু করে
পিতলের গেলাস বাসন – কাঠের সিন্দুক
মস্ত বড়ো মোটা আস্তরনের সোনালী পাতিল কিছুই অচেনা হয়নি ।
অচেনা হয়নি শ্যাঁতশ্যাঁতে কাঁদা মাটির গন্ধ
ঘাটের কাছে বলে যাওয়া ছলাৎ ছলাৎ জলের গল্প
কিংবা দেড় হাত ঘোমটার আড়ালে লুকানো বধুর লাজুকতা ।
অচেনা হয়নি ঢোল কলমির ফুল – গড়িয়ে পড়া জাম এর রস
অজান্তে কাউ ফল এর বিচি গিলে খাওয়ার আতঙ্কতা
ভুল বানানে লিখে বালিশের নীচে রাখা কিশোরীর প্রেম পত্র ।
কোন কিছু ই অচেনা হয়নি ।
আমার চির চেনা – চির চেনা’ই হয়ে আছে ,
অচেনা হয়েছে কেবলই সন্তানের কাছে ।