ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক ॥
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর ব্রহ্মপুত্র ব্রিজের পূর্বপাশে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় ৩ নারী ও ২ পুরুষসহ ৫ জন নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এসময় দুইটি কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।

আজ ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় পৌর শহরের জগন্নাথপুর ব্রহ্মপুত্র ব্রিজের পূর্বপাশে বেনী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সিএনজি চালক ও একজন পুরুষ যাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারলেও তিনজন নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। শনাক্তকৃত চালক ও ১ জন পুরুষ যাত্রী হলো, রায়পুরার মির্জাপুর ইউনিয়ন এর পিরিজকান্দি গ্রামে আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার ছেলে রাজন মিয়া (১৭) ও একই ইউনিয়ন এর পরশ আলির ছেলে সিএনজি চালিত অটো রিকশা চালক শাহীন আলম (২৩)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভৈরবগামী দুইটি কভার্ড ভ্যান ওভার ট্রেকিংয়ের সময় ভৈরবগামী সিএনজিকে পিছন থেকে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসময় সিএনজিটি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে সিএনজিতে থাকা চালকসহ ১ জন পুরুষ ও ৩ তিন নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। হাইওয়ে থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে চালক শাহীন আলমের বাবা পরশ মিয়া বলেন, ৫ বছর আগেও আমি আমার ছেলেকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছি। আজ আবার আমার আরেক ছেলেকে হারালাম। নিষ্ঠুর সড়ক আমার সন্তান কেড়ে নিয়েছে। আমি কভার্ড ভ্যান চালকের বিচার চাই।
এ বিষয়ে নিহত রাজনের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাজার করতে আমার ছেলে ভৈরবে যাচ্ছিল। সকালে নাস্তা খেয়ে বাজার করতে আমার সাথে শেষ কথা বলে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর ফোন আসে আমার ছেলে এক্সিডেন্ট করেছে। আমার একমাত্র ছেলেকে হারালাম। আমি এখন কীভাবে চলবো।
এ বিষয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সাঝু মিঞা বলেন, খবর পেয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকীদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।