নিজস্ব প্রতিনিধি :
সরকারি চাকরিজীবীদের আচরণবিধি ও শাস্তির বিধান আরও কঠোর করে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বুধবার রাতে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, কোনো সরকারি চাকরিজীবী আন্দোলনের মাধ্যমে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজে বাধা দিলে কিংবা তাদের কাজ থেকে বিরত রাখলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো যাবে। এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই গেজেট অনুযায়ী, সরকারি আদেশ অমান্য করাকে ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশের ৩৭ ধারায় বলা হয়েছে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা, আইনসংগত কারণ ব্যতীত সরকারি আদেশ বা নির্দেশ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা বা বাধা সৃষ্টি করা, কিংবা অন্য কর্মচারীকে এসব কাজে প্ররোচিত করা সবই ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।
একইভাবে, যুক্তিসংগত কারণ কিংবা ছুটি ব্যতিরেকে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে একত্রে কাজে অনুপস্থিত থাকা অথবা অন্যদের কাজে বাধা দেওয়া তাও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই ধরনের আচরণের শাস্তি হিসেবে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নপদে অথবা নিম্ন বেতন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া, বাধ্যতামূলক অবসর, এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিধানও রয়েছে।
শাস্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এক সদস্যের পরিবর্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে অন্তত একজন নারী সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক।
তবে, আগের অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলেও, সংশোধিত অধ্যাদেশে তা রাখা হয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে না বলে গেজেটে স্পষ্ট করা হয়েছে।