নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, “আজকের জুলাই মাসের বার্তা ও গণতন্ত্রের বার্তা যদি আমরা একসূত্রে গাঁথতে না পারি, তাহলে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট কী বার্তা নিয়ে এসেছিল, তা কোথায় হারিয়ে যাবে তা বলা কঠিন।”
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘মুক্তচিন্তা বাংলাদেশ’ আয়োজিত “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যে বার্তা দিয়ে গেল” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। “বিপ্লবটি শুরু হয়েছিল ১ জুলাই, শেষ হয়েছিল ৫ আগস্ট তবু আমরা একে শুধু ‘জুলাই বিপ্লব’ বলি কেন? কেন নয় ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লব’? এই প্রশ্নের উত্তর আমি দিচ্ছি না, কারণ হয়তো তা অপ্রিয় হয়ে উঠবে,” বলেন তিনি।
তবে তিনি সকলকে নিজ নিজ বিবেক দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আহ্বান জানান।
ড. মঈন খান বলেন, “১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে এ দেশে গণতন্ত্রে ফেরার পথ আবারও খুলে গেছে। যদিও এখনো আমরা সেই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। তবে যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখি, তবে আমাদের সেই পদ্ধতিতেই ফিরে যেতে হবে যেখানে দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আমাদের কী বার্তা দিল? আমরা কি সেই বার্তাটি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছি, না কি খুঁজতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছি এ প্রশ্নের জবাব আজই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।”
১৯৯০ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “তখনও একটি সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে গণজাগরণ হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়েছিল। আমরা তখন গণতন্ত্রে ফিরেছিলাম এবারও কি পারব না?”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানে শুধু বক্তব্য নয়, জবাবদিহিতা। রাজনীতিক হিসেবে আমিও যদি ভুল করি, আমাকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ একটাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।”
নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, “বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থা কখনোই সুইচ টিপে পুরোনোদের সরিয়ে নতুনদের দিয়ে পরিচালিত হয় না। গণতন্ত্রে সব প্রজন্মের সহাবস্থান নিশ্চিত করেই সামনে এগোতে হয়।”
আয়োজক সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবুল কাসেম হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমেরিকার শাবানা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, শাহ মখদুম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শামসুল হক, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এফ এ সোবহানি প্রমুখ।