নিজস্ব প্রতিনিধি :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মর্যাদা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কবিতা ও কথা’ শীর্ষক এক হৃদয়বিদারক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন, যেখানে অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা।
অনুষ্ঠানে উঠে আসে একদিকে অম্লান স্মৃতি, অন্যদিকে রাষ্ট্রের দায়হীনতার তীব্র নিন্দা। শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে ভরে ওঠে মিলনায়তন। একইসঙ্গে কবিতার ভাষায় উচ্চারিত হয়, বিচারের দাবিতে জনগণের গর্জন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহীদ ইমাম হাসান তায়িমের বড় ভাই ও ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’-এর সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল ভূঁইয়া। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, “জুলাই সনদে শহীদ পরিবারের স্বাক্ষর নেই, এটা রাষ্ট্রের নৈতিক ব্যর্থতা। এখনও অনেক মরদেহ হস্তান্তর হয়নি। এ দায় কোনোভাবে এড়ানো যায় না।”
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আপনারা শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় বসে আছেন, অথচ তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় পান না, এটা জাতির জন্য চরম লজ্জার।”
জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, “স্বৈরাচার যতবার ফিরে আসবে, কবিরা প্রতিবাদ করবে কবিতার মাধ্যমে। আমরা গণতান্ত্রিক ধারায় দেশকে এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
সহ-সভাপতি কবি সোহরাব হাসান পাঠ করেন তাঁর কবিতা ‘এক অজ্ঞাতনামা শহীদের জবানবন্দী’, যেখানে ফুটে ওঠে রাষ্ট্র ও ইতিহাসের প্রতি এক অজানা শহীদের দায়বদ্ধতা ও প্রশ্ন। তিনি বলেন, “২৪-এর অভ্যুত্থানে কোনো একক নেতৃত্ব ছিল না। শহীদদের চিহ্নিত করা ও তাঁদের ইতিহাস লেখা আমাদের দায়িত্ব।”
কবি শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান কেবল গণআন্দোলন ছিল না, এটি ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ।”
সভাপতি মোহন রায়হান বলেন, “আমরা জনগণের ক্ষমতায়ণ চাই। ইতিহাস বলে, প্রতিবাদের প্রথম কণ্ঠস্বর সবসময় এসেছে কবিতার মধ্য দিয়ে, নেরুদা থেকে মায়াকোভস্কি পর্যন্ত।”
অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচন করা হয় ‘সংকলন দিকচিহ্ন’ নামের বিশেষ কবিতা সংকলনের, যেখানে স্থান পেয়েছে ‘জুলাই বিপ্লব’ বিষয়ক শতাধিক কবির রচনা। একে একে মঞ্চে উঠে কবিতা পাঠ করেন অনামিকা হক লিলি, এবিএম সোহেল রশীদ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, শ্যামল জাকারিয়া, নূরুল ইসলাম মনি প্রমুখ।
সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন মিশু দাস, শিমুল পারভীন, পারহান উদ্দীন ও তাসিন সিদ্দিক অর্জন। উপস্থাপনায় ছিলেন কবি শিমুল পারভীন ও নাহিদ হাসান।
পুরো আয়োজনজুড়ে উচ্চারিত হয় শহীদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা, বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যতের প্রত্যয়।