নিজস্ব প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি, সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের জামিন আবেদন মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা দায়রা জজ আদালত নাকচ করেছেন। জেলা দায়রা জজ মোছা. ইসমত আরা আদালতে উপস্থিত সুলতানা পারভীনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আদালতে হাজির হন সুলতানা পারভীন। এসময় তার সঙ্গে থাকা লোকজন সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেন। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার মুখোমুখি হলেও তাতে বাধ্য হয়েও ছবি তোলার সুযোগ হয়নি।
এই মামলার ঘটনা দীর্ঘদিনের। জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সুলতানা পারভীন বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে তার বাড়ি থেকে তুলে আনার নির্দেশ দেন। এরপর ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং মাদক মামলা দায়ের করে মধ্যরাতে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে নির্যাতিত সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। বিষয়টি আলোচনায় আসে আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ে বিচার প্রক্রিয়ার সময়।
উল্লেখ্য, হাইকোর্ট থেকে সুলতানা পারভীনকে জামিন দেওয়া হলেও নিম্ন আদালত থেকে তিনি তা পাননি। মঙ্গলবারের আদালতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় কার্যত তিনি আবার জেলহাজতে পাঠানো হল।
বাদীর আইনজীবী এডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “চার্জশিটের প্রধান আসামি সুলতানা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে আমরা প্রাথমিক ও সুষ্ঠু রায় পেয়েছি। আশা করি, বিচার প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত হবে।”
নির্যাতিত সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেন, “এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট। বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, দেশের অন্যান্য সাংবাদিকরাও নিরাপদে তাদের কাজ করতে পারবে।”
এই ঘটনার মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে কঠোর দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। কুড়িগ্রামের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাংবাদিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।