যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন। মামদানির হাত ধরেই নিউইয়র্ক প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম মেয়র পেল।
এর আগে গত জুনে দলীয় প্রাইমারিতেও কুমো মামদানির কাছে হেরেছিলেন। তাই এই পরাজয় তার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধাক্কা। বিশ্লেষকরা বলছেন, মামদানির বিজয় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল শাখার জন্য বড় সাফল্য, এমন সময়ে যখন দলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
মামদানির জন্ম উগান্ডায়, বেড়ে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে। সাত বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি নিউইয়র্কে চলে আসেন। তাঁর বাবা মাহমুদ মামদানি একজন খ্যাতিমান উগান্ডান শিক্ষাবিদ ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। মা মীরা নায়ার প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা।
রাজনীতিতে আসার আগে জোহরান ছিলেন কাউন্সেলর ও একজন ‘র্যাপার’। তিনবার অঙ্গরাজ্যের অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শুরুতে তাকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি শহরের তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের বড় সমর্থন পান।
এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে—প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার। মোট ৪৭ লাখ ভোটারের শহরে এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া সবচেয়ে বড় আগাম ভোটের ঘটনা।
আগামী ১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন জোহরান মামদানি। তিনি এমন একটি শহরের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যেখানে ৮৫ লাখের বেশি মানুষ, তিন লাখ পৌরকর্মী ও সাড়ে ১১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বাজেট রয়েছে।
৩২ বছর বয়সী জোহরান শুধু নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়রই নন, তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও সবচেয়ে কমবয়সী মেয়র হিসেবেও ইতিহাসে নাম লেখালেন।