মোঃ পলাশ শেখ,
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আইনগত সহায়তা ও আয়বৃদ্ধিমূলক সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে “ইনহান্সিং জেন্ডার ইকুয়ালিটি প্রজেক্ট (জিইপি)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলা অগ্রগতি শেয়ারিং মিটিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল সাড়ে ১০টায় সোসিও হেলথ এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম (শার্প), সিরাজগঞ্জ-এর আয়োজনে কাজিপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শার্প, সিরাজগঞ্জের “ইনহান্সিং জেন্ডার ইকুয়ালিটি প্রজেক্ট (জিইপি)” প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম-এর সঞ্চালনায় এবং জেন্ডার অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি অফিসার মোছা. সূচনা আক্তার-এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শার্পের নির্বাহী পরিচালক মোছা. সাফিয়া সুলতানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেল, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ও তেকানী ইউনিয়নের প্রশাসক ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল হুদা তালুকদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চিত্রারানী সাহা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজিপুরের উপসহকারী প্রকৌশলী ও নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের প্রশাসক সাজ্জাদুর রহমান সবুজ, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা প্রমুখ। এছাড়াও শার্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও বিপদাপন্ন নারীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে আইনগত সহায়তা প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন মোকাবিলা, বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান, নারীদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও মানবাধিকার, নারীর স্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার, দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলা, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সমতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নারীর অর্থনৈতিক অধিকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ও তেকানী ইউনিয়নের প্রশাসক ফয়সাল আহমেদ বলেন, শার্পের সহযোগিতায় ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন অনেক সহজ হয়েছে, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি ও যুব ভলান্টিয়ার কমিটির সদস্যরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ও নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের প্রশাসক সাজ্জাদুর রহমান সবুজ বলেন, বাল্যবিবাহ ও হাইজিন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হলে তা জনসাধারণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
সেমিনারে জেন্ডার বৈষম্যের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চিত্রারানী সাহা। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ বৈষম্য কমাতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ পরিবার থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।
নারীর আয় বৈষম্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলম।
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেল বলেন, চরাঞ্চলের কোনো নারী, পুরুষ বা শিশু যদি কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হয়, তাহলে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
সর্বশেষে সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান আগামী ২–৩ মাসের মধ্যে গ্রাম আদালত সক্রিয় করার আশ্বাস দেন এবং নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।