মো. আমজাদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
দীর্ঘ দুই সপ্তাহের কানফাটানো মাইকিং আর মিছিলের শোরগোল ছাপিয়ে ঢাকা-০৫ নির্বাচনী এলাকায় এখন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকাল ৭:৩০টার পর থেকেই যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলীর রাজপথ থেকে উধাও হয়ে গেছে সব ধরণের প্রচারণামূলক কার্যক্রম। তবে এই দৃশ্যমান নীরবতার আড়ালে ৪,১৯,৯৯৬ জন ভোটারের মন জয়ে এখন চলছে প্রার্থীদের গভীর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ও ‘পকেট মিটিং’। সরেজমিনে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, দানিয়া, রায়েরবাগ, ধোলাইপাড় এলাকায় দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অন্য দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও বহিরাগতদের গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য প্রচারণা বন্ধ হওয়ায় এখন লড়াইটা স্থানান্তরিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পাড়া-মহল্লার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। ৪,১৯,৯৯৬ জনের এই বিশাল ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে যারা এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন, তাদের ভোট ব্যাংকে টানতেই ব্যস্ত প্রার্থীরা। বিশেষ করে ডেমরা ও সারুলিয়া এলাকার শ্রমিক ভোটার এবং যাত্রাবাড়ীর মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মাঝে ‘জুলাই চার্টার’ বা গণভোট নিয়ে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে পর্দার আড়ালে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কোনো মিছিল নেই, নেই কোনো মাইকের শব্দ। তবুও যাত্রাবাড়ীর মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে নিচু স্বরে চলছে ভোটের হিসাব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে এই নিস্তব্ধতা কি কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি অন্য কিছুর পূর্বাভাস? সেই প্রশ্নই এখন ঢাকা-০৫ আসনের আকাশে-বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে।