নিজস্ব প্রতিনিধি:
ফেনীর লালপোলে ট্রাক চাপায় কিশোর শান্ত কুমার সাহার (১৫) মৃত্যুর ঘটনা চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্তে উদ্ঘাটন করেছে এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা। পুলিশের অভিযানে তিনজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিক্সার যন্ত্রাংশ ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় একটি ট্রাকের নিচে পড়ে নিহত হয় শান্ত। নিহতের বাবা কানু কুমার সাহা ফেনী মডেল থানায় সড়ক দুর্ঘটনার মামলা দায়ের করেন। তবে ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, দুর্ঘটনার আগে শান্তের অটোরিক্সা ও মোবাইল ছিনতাই হয়েছিল।
ফেনী ডিবি পুলিশের এসআই রেজোয়ানের নেতৃত্বে একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও সাইবার সেলের সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে ফেনী মডেল থানার এএসআই অনুপসহ ডিবি টিম চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে সোহাগ ও নাসিরকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ও অটোরিক্সা বিক্রির ৫০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
সোহাগের তথ্য অনুযায়ী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের কড়ইতলা থেকে চক্রের মূল হোতা ইমাম উদ্দিন ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। ইমনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী স্থানীয় একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিক্সার বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। নাসির ও সোহাগ চট্টগ্রামে একই বাসায় থাকত এবং নাসির ফোনে ইমনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে সোহাগকে ফেনীতে পাঠায়। সোহাগ সুযোগ বুঝে শান্তের অটোরিক্সা ও মোবাইল ছিনতাই করে। অটোরিক্সা নোয়াখালীর একটি গ্যারেজে যন্ত্রাংশ আলাদা করার জন্য পাঠানো হয় এবং মোবাইল নাসিরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবি পুলিশের ওসি মর্ম সিংস জানিয়েছেন, নাসির ও সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই মামলা রয়েছে। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল আজিম জানান, অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় ১০ মার্চ ফেনী মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় একটি নতুন মামলা (মামলা নং-২৮) রুজু করা হয়েছে।