শবেকদর কোন রাত : হাদিসে শবেকদরকে রমজানের শেষ দশকের রাতসমূহে অণ্বেষণ করতে বলা হয়েছে। যেমন- আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন আর বলতেন, তোমরা লায়লাতুল-কদরকে রমজানের শেষ দশকে অণ্বেষণ করো। (বুখারি, হাদিস: ১৯১৬; মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৩)
অন্য হাদিসে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে অণ্বেষণ করতে বলা হয়েছে। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা লায়লাতুল কদরকে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে অণ্বেষণ করো। (বুখারি, হাদিস: ১৯১৩) বোঝা যায়, শেষ দশদিনের যে কোনো রাতেই লায়লাতুল-কদর হতে পারে। তবে এর মধ্যে বেজোড় রাতগুলোর প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শবেকদরের মর্যাদা : শবেকদরের মর্যাদা অনুধাবনের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সুরা কদর নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা অবতীর্ণ করেছেন। সুরায় এরাতের চারটি বৈশিষ্ট ও ফজিলতের বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ্ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে কদরের রাতে আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি। আর আপনি কি জানেন- কদরের রাত কি? কদরের রাত হলো হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ রাতে ফেরেশতা ও রুহুল কুদুস (জিবরাইল আ.) তাদের পালন কর্তার আদেশক্রমে প্রত্যেক মঙ্গলময় বস্তু নিয়ে (পৃথিবীতে) অবতরণ করে। (এ রাতের) আগাগোড়া শান্তি যা ফজর হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সুরা কদর, আয়াত: ১- ৫)
শবেকদরের আমল ও বিশেষ দোয়া : রমজানের শেষ দশক আসার সাথে সাথেই রাসুলুল্লাহ (সা.) সপরিবারে রাত জাগরণ করে ইবাদত-বন্দেগি করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমজানের শেষ দশদিন আসার সাথে সাথেই রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে রাত জাগরণ শুরু করতেন এবং পরিবারবর্গকে জাগাতেন। ইবাদতের মধ্যে অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন এবং দৃঢ় করে লুঙ্গি বেঁধে নিতেন। অর্থাৎ কোমর বেঁধে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতেন। (বুখারি, হাদিস: ১৯২০; মুসলিম, হাদিস: ২৮৪৪)
বিশেষ দোয়ার বিশেষত্ব : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন, তুহিব্বুল ‘আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।’ দোয়াটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো- আরবি ভাষায় মাগফিরাহ এবং ‘আফওয়া দুটি শব্দের অর্থই ক্ষমা। কিন্তু ‘আফওয়া শব্দটি মাগফিরাহ শব্দের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ক্ষমা অর্থে ব্যবহার হয়। আরবি ভাষায় মুছে ফেলা অর্থে ‘আফওয়া শব্দটি ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন- আপনি চক দিয়ে বøাকবোর্ডে লিখছেন। এমন সময় আপনার লেখার মধ্যে কিছু ভুল শব্দ লিখে ফেলেছেন, তখন কি করবেন? নিশ্চয়ই ডাস্টার দিয়ে ভুল লেখাগুলো মুছে ফেলবেন? এই মুছে ফেলা অর্থে ‘আফওয়া শব্দটি ব্যবহার হয়। অর্থাৎ ‘আফওয়া হলো- এমন ক্ষমা, আল্লাহ্ আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়ার পর তা পুরোপুরি মুছে ফেলবেন। এমনকি বিচার দিনেও আমাদেরকে সেই গুনাহগুলো সম্পর্ক জিজ্ঞেস করবেন না। আল্লাহ্ তাঁর বান্দা এবং ফেরেশতাদেরকে এই গুনাহগুলোর কথা ভুলিয়ে দেবেন। যেনো বিচার দিনে এই গুনাহগুলোর জন্য আমাদেরকে অপমানিত হতে না হয়। যখন মানুষ তার পাপ কর্মের জন্য মন থেকে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, তখন আল্লাহ্ তা‘য়ালা অত্যন্ত খুশি হয়ে এই ধরনের ক্ষমা করেন। পক্ষান্তরে মাগফিরাহ অর্থও ক্ষমা। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা‘য়ালা ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু গুনাহগুলো তারপরও লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। বিচারের দিন এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে। বিচার দিনের আগে গুনাহগুলো মুছে ফেলা হবে না। এই দোয়ায় এই ‘আফওয়া শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে।