বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, ২৫শে মার্চের কালরাতে সবচেয়ে বড় গণহত্যা বা ম্যাসাকার শুরু হয়েছিল এই রাজারবাগ পুলিশ লাইনস থেকেই। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালায়। মূলত রাজারবাগের এই প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার প্রাথমিক ভিত্তি।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তানি কমান্ডারের নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই তিনি রাজারবাগে আক্রমণের খবর পান। খবর পাওয়ার পরপরই তিনি অনুধাবন করেন যে বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার ঘোষণার এখনই মোক্ষম সময়। তিনি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ষোলশহর সামরিক বেইজে ফিরে গিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং পরবর্তী সময়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বিশ্ববাসীর সমর্থন কামনা করেন।
দীর্ঘদিন পর স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ পুনরায় শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমরা নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলছি। শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এবং সব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা হবে।
রাজারবাগে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে ভোরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।