প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া প্রত্যাহার করে গ্রাহক অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অসন্তোষের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে এই চার্জ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্রুতই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আজ রোববার (২৯ মার্চ) গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে বিদ্যুৎমন্ত্রী এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল, তা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। সরকার সবসময় গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই জনস্বার্থ বিবেচনা করে আমরা মিটার চার্জ পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
কেন এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রত্যেক গ্রাহককে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা ‘মিটার ভাড়া’ হিসেবে গুনতে হয়। গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, মিটারের প্রকৃত দাম পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর এই টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। একে এক ধরনের ‘অযৌক্তিক বোঝা’ হিসেবে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন চিহ্নিত করে আসছিল।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জোরালো জনদাবি ও সামাজিক আন্দোলন গত বেশকিছু সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে এই চার্জ বাতিলের দাবিতে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। এই জনদাবির যৌক্তিকতা বিচার করেই মন্ত্রণালয় এই প্রথা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বিদ্যুৎ বিলের ওপর থেকে অতিরিক্ত খরচের চাপ কমবে এবং প্রিপেইড মিটারের ওপর জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।