আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
হুমকি ও চাপের মুখে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে তার এই বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকুচিত করছেন। তার ভাষায়, “ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চান, অথবা নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা হুমকির মুখে কোনো আলোচনা গ্রহণ করি না।”
বর্তমান উত্তেজনার পেছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ জব্দের ঘটনা। এর পর থেকেই ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতাও থেমে নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হতে পারেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক বুধবার ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে এই বৈঠকের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রতিনিধি দল শিগগিরই যাত্রা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই আলোচনা শুরু হলেও সমঝোতা না হলে সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতি ও সামরিক উত্তেজনা—দুইয়েরই সমান্তরাল অগ্রগতি বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।