নিজস্ব প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ছাত্রদল ও যুবদলের দুটি পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত পৌর সদর বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় আটক আজমিরীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রিক্ত করিমের জামিনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতা ঘটে। জামিনে সহায়তা করার জন্য মামলার বাদী ইবজল মিয়াকে আদালতে নিয়ে যান পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আহমেদ। সেখানে বিষয়টি নিয়ে যুবদল নেতা ফকরুল ইসলামের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়, যা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এর জেরে সন্ধ্যায় মারুফের পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করলে পাল্টা মিছিল করে ফকরুলের অনুসারীরা। এরপর উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ছাত্রদল নেতা মারুফ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “আদালতে আমার ওপর হামলা চালান ফকরুল। এর প্রতিবাদে মিছিল করতেই তার লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়।”
অন্যদিকে, যুবদল নেতা ফকরুল ইসলাম বলেন, “জোর করে মামলার বাদীকে আদালতে নেওয়ার প্রতিবাদ করি। এর জেরেই মারুফের লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিছিল বের করে, যার পরিণতিতে সংঘর্ষ বাধে।”
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুল আলম জানান, বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) প্রবাস কুমার সিংহ বলেন, “আসামির জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”